মেজর সিনহা হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী ওসি প্রদীপ, গুলি করেন লিয়াকত

- আপডেট সময় ০৮:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৪১ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) ছিলেন টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। আর পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ঘটনাস্থলে থেকে সাবেক পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী নিজ পিস্তল দিয়ে সিনহাকে গুলি করেন। এ গুলির আঘাতে সিনহার মৃত্যু হয়েছে বলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে।
মেজর সিনহা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে ২ জুন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান রায়টি বাংলায় লিখেছেন। এর সঙ্গে বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. সগীর হোসেন একমত পোষণ করেছেন।
আরও পড়ুন: ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে-মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সিনহার বুকের বাম পাঁজরে তিনি জুতা পরা পা দিয়ে জোরে আঘাত করেন। এতে সিনহার বুকের দুটি হাড় ভাঙে যায়। গলার বাম পাশে জুতা পরা পা দিয়ে প্রদীপ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যসহ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে এসব প্রমাণিত।’ এছাড়া প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য, দণ্ডপ্রাপ্তসংশ্লিষ্ট আসামিদের অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে-মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা মতে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিরস্ত্র সিনহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চারটি গুলি করেন। ওই গুলির আঘাতে সিনহার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। হাইকোর্টের রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। রায়ে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি মো. সগীর হোসেন। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী।’
















