কক্সবাজার ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় ১০ মাদক কারবারি নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কমিটি গঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

কক্সবাজারের উখিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পালংখালী ইউনিয়ন শাখার ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির অন্তত ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, সীমান্তপথে মাদক পাচার ও মাদকচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টনের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা এ কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি বাতিলের দাবি, সমালোচনা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে এ দাবিতে মশাল মিছিলও হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, কমিটির অধিকাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। আহ্বায়ক ফয়েজুল ইসলাম মেম্বার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে ঘিরেও মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে৷

 

কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান সাজু ও পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন সওদাগর। কমিটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন জুয়েলও।

 

শাহজাহান সাজু তাঁর পোস্টে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কামাল উদ্দিন সওদাগর তাঁর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুবলীগ নেতা রিজভী আজম। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেও তিনি কমিটিতে জায়গা পাননি। নিজের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রিজভী আজম বলেন, ‘দলের জন্য আর কী করলে এমন কমিটিতে জায়গা পাওয়া যাবে?’

 

পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘পলাতক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নেতারা কিছু করতে চাইলে কঠিনভাবে প্রতিহত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার নেতাদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

 

পালংখালী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচার নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কমিটি ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, পদ বণ্টনের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

কমিটি ঘোষণাকারী উখিয়া উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উখিয়ায় ১০ মাদক কারবারি নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কমিটি গঠন

আপডেট সময় ০৭:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পালংখালী ইউনিয়ন শাখার ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির অন্তত ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, সীমান্তপথে মাদক পাচার ও মাদকচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টনের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশা এ কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি বাতিলের দাবি, সমালোচনা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে এ দাবিতে মশাল মিছিলও হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, কমিটির অধিকাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। আহ্বায়ক ফয়েজুল ইসলাম মেম্বার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে ঘিরেও মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে৷

 

কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান সাজু ও পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন সওদাগর। কমিটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন জুয়েলও।

 

শাহজাহান সাজু তাঁর পোস্টে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কামাল উদ্দিন সওদাগর তাঁর কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুবলীগ নেতা রিজভী আজম। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেও তিনি কমিটিতে জায়গা পাননি। নিজের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রিজভী আজম বলেন, ‘দলের জন্য আর কী করলে এমন কমিটিতে জায়গা পাওয়া যাবে?’

 

পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘পলাতক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নেতারা কিছু করতে চাইলে কঠিনভাবে প্রতিহত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার নেতাদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

 

পালংখালী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচার নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কমিটি ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, পদ বণ্টনের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

কমিটি ঘোষণাকারী উখিয়া উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামাল পাশার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।’