‘১৭ বছর ঈমান বিক্রি করিনি, তবুও আজ অবমূল্যায়িত’: ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতির ক্ষোভ

- আপডেট সময় ০২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা-হামলা সহ্য করেও দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। মা-বাবার অসুস্থতার সময়েও পাশে থাকতে না পারার কষ্ট বুকে চেপে পালন করেছেন কেন্দ্র ও দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও মূল্যায়িত হননি ত্যাগী কর্মীরা—এমনই ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামশু ইসলাম শামীম।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, পারিবারিক ক্ষতি এবং বর্তমান অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা।
শামশু ইসলাম শামীম বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর দলের প্রতিটি দুশরমে (দুঃসময়ে) আমরা রাজপথে ছিলাম। হাই কমান্ডের প্রতিটি আদেশ বিশ্বস্ততার সাথে পালন করেছি, দলের সাথে কখনোই গাদ্দারি করিনি বা ঈমান বিক্রি করিনি। কিন্তু আজ যখন নতুন সময় এসেছে, তখন আমরা ভালো নেই। যাদের ১৭ বছর রাজপথে বা আন্দোলনের সময় কাছে পাওয়া যায়নি, সেই ‘ঘুমন্ত পাখিরা’ এখন এসে রাজত্ব করছে। বর্ষীয়ান বা সিনিয়র নেতারাও তাদেরই খুঁজে নিচ্ছেন, আর আমাদের মতো দুই দিনের (নিবেদিত) কর্মীদের কোনো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না।”
নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “দলের পেছনে সময় দিতে গিয়ে আমার মা এবং বাবা তিলে তিলে মারা গেছেন, কিন্তু আমি তাদের পাশে থাকতে পারিনি। শত্রুতা ও রাজনীতির অপঘাতের শিকার হয়ে বারবার লাঞ্ছিত হয়েছি, ব্যবসার দোকানপাট পর্যন্ত খুইয়েছি। অথচ আজ রাজনীতি যেন টাকার ওয়ালা আর বেয়াদবদের দখলে চলে গেছে। সাধারণ ও ত্যাগী কর্মীদের শুধু ব্যবহার করার জন্যই ডাকা হয়, তাদের সংসারের আলো জ্বালানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আজ অনেকে বলেন ধৈর্য ধারণ করতে, আমরা অনেক সুখে আছি। কিন্তু আমরাই জানি কতটা কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদের পকেটে টাকা নেই বলে আজ সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তবে সময় আসছে, সামনে নির্বাচন হলে বোঝা যাবে কার কতটুকু গুরুত্ব।”
তৃণমূলের এই নেতা জানান, এত লাঞ্ছনা ও অবমূল্যায়নের পরও তিনি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখছেন। তবে দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন বন্ধ করে অবিলম্বে তাদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।



















