কক্সবাজার ০৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত আধুনিক টার্মিনাল পরীক্ষামূলক চালু

বিশেষ প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে

সাগরের বুক থেকে বাড়ানো রানওয়ে এবং ওপরে স্টিলের কাঠামোয় নির্মাণ করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন দিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা। গতকাল থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও এটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নতুন টার্মিনালের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট পর্যটক ও যাত্রীরা।

 

প্রশস্ত টার্মিনাল, আধুনিক বোর্ডিং লাউঞ্জ, ব্যাগেজ বেল্ট ও অন্যান্য সুবিধায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তারা। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ঢাকাগামী বিমানের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নতুন টার্মিনাল দিয়ে যাত্রা করতে পারব, বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো এবং আনন্দের। আগের রাতে হঠাৎ এসএমএস পেয়ে জানতে পারি, আমাদের নতুন টার্মিনাল দিয়েই যেতে হবে।’

 

সাখাওয়াত আরো বলেন, ‘অনেক বছর ধরে কক্সবাজারে যাতায়াত করছি। টার্মিনালটির নির্মাণকাজও প্রত্যক্ষ করছিলাম; কিন্তু কবে চালু হবে তা জানা ছিল না। সোমবার সকালে প্রথম দিকের ফ্লাইটে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কক্সবাজার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ বলেন, ‘নতুন টার্মিনালের আগমন ও প্রস্থান হল বেশ প্রশস্ত। বড় বোর্ডিং লাউঞ্জসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তাতে। ফলে আগের মতো যাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে হবে না।’

 

দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েক বছর ধরে চলছে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ। নতুন টার্মিনাল ভবনের পাশাপাশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে রানওয়ে। আগামী (অক্টোবর) মাসে এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন রানওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে নেওয়া হয়েছে জোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

 

বিমানবন্দর নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আনসার, বিমানবাহিনী, বেবিচক, এপিবিএনসহ প্রায় ১৬টি সংস্থা সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

 

জানা গেছে, প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এতে ৪৫০ আন্তর্জাতিক যাত্রীর ধারণক্ষমতার ডিপার্চার লাউঞ্জ, ডিউটি ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেকইন ও ইমিগ্রেশন কাউন্টার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের জন্য ছয়টি এবং বহির্গামীদের জন্য চারটি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে দুটি ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্ট। নতুন অবকাঠামোর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সাত লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ থেকে ২০ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রন।

 

যাত্রীসেবার আন্তর্জাতিক মানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো। রয়েছে প্রশস্ত অ্যাপ্রনও। ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের এই

 

অ্যাপ্রনে একসঙ্গে রাখা যাবে দুটি ওয়াইড বডি ও তিনটি ড্যাশ-এইট উড়োজাহাজ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতার মান যাচাই শেষে এই বিমানবন্দর পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের সনদও।

 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ৯ হাজার ফুটের রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে এক হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে পূর্ণ যাত্রী ও কার্গো বোঝাই বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এখানে। বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে নতুন টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা নতুন ও পুরনো-দুই টার্মিনালই ব্যবহার করবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করছে ৫৪টি উড়োজাহাজ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত আধুনিক টার্মিনাল পরীক্ষামূলক চালু

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাগরের বুক থেকে বাড়ানো রানওয়ে এবং ওপরে স্টিলের কাঠামোয় নির্মাণ করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনাল। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন দিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা। গতকাল থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও এটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নতুন টার্মিনালের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট পর্যটক ও যাত্রীরা।

 

প্রশস্ত টার্মিনাল, আধুনিক বোর্ডিং লাউঞ্জ, ব্যাগেজ বেল্ট ও অন্যান্য সুবিধায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তারা। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট ৭০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ঢাকাগামী বিমানের যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নতুন টার্মিনাল দিয়ে যাত্রা করতে পারব, বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো এবং আনন্দের। আগের রাতে হঠাৎ এসএমএস পেয়ে জানতে পারি, আমাদের নতুন টার্মিনাল দিয়েই যেতে হবে।’

 

সাখাওয়াত আরো বলেন, ‘অনেক বছর ধরে কক্সবাজারে যাতায়াত করছি। টার্মিনালটির নির্মাণকাজও প্রত্যক্ষ করছিলাম; কিন্তু কবে চালু হবে তা জানা ছিল না। সোমবার সকালে প্রথম দিকের ফ্লাইটে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কক্সবাজার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ বলেন, ‘নতুন টার্মিনালের আগমন ও প্রস্থান হল বেশ প্রশস্ত। বড় বোর্ডিং লাউঞ্জসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তাতে। ফলে আগের মতো যাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে হবে না।’

 

দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েক বছর ধরে চলছে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ। নতুন টার্মিনাল ভবনের পাশাপাশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে রানওয়ে। আগামী (অক্টোবর) মাসে এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন রানওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে নেওয়া হয়েছে জোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

 

বিমানবন্দর নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আনসার, বিমানবাহিনী, বেবিচক, এপিবিএনসহ প্রায় ১৬টি সংস্থা সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।

 

জানা গেছে, প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এতে ৪৫০ আন্তর্জাতিক যাত্রীর ধারণক্ষমতার ডিপার্চার লাউঞ্জ, ডিউটি ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেকইন ও ইমিগ্রেশন কাউন্টার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের জন্য ছয়টি এবং বহির্গামীদের জন্য চারটি ইমিগ্রেশন ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে দুটি ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্ট। নতুন অবকাঠামোর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা সাত লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ থেকে ২০ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রন।

 

যাত্রীসেবার আন্তর্জাতিক মানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো। রয়েছে প্রশস্ত অ্যাপ্রনও। ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের এই

 

অ্যাপ্রনে একসঙ্গে রাখা যাবে দুটি ওয়াইড বডি ও তিনটি ড্যাশ-এইট উড়োজাহাজ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতার মান যাচাই শেষে এই বিমানবন্দর পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের সনদও।

 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ৯ হাজার ফুটের রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে এক হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে পূর্ণ যাত্রী ও কার্গো বোঝাই বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এখানে। বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে নতুন টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা নতুন ও পুরনো-দুই টার্মিনালই ব্যবহার করবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করছে ৫৪টি উড়োজাহাজ।