বদরখালীতে আঁধারে তাণ্ডব-ঘরবাড়ি ভাঙচুর; ৩ শেয়ারদারকে অপহরণের অভিযোগ

- আপডেট সময় ০৮:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির আওতাধীন সাতডালিয়ার ৫ নম্বর লটারির বরাদ্দ ঘোনা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং তিন শেয়ারদারকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বরাদ্দ করা ঘোনায় বসবাসরত কয়েকটি ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ সময় সমিতির বয়োবৃদ্ধ সদস্য আক্তার হোসেন (৭০), রুকন উদ্দিন (৫০) ও তানভীর ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বদরখালীর ১ নম্বর স্লুইসগেট নতুন ঘোনা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়ার প্রায় ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর লোকজন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বরাদ্দকৃত ঘোনায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তারা।
হঠাৎ করে রাতের আঁধারে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাতডালিয়া লটারির সভাপতি নাজেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম, সদস্য ফোরকান, এলাকাবাসীর পক্ষে মাওলানা আবদুস সালাম ও মোহাম্মদ ইসমাইল বক্তব্য দেন।
সভাপতি নাজেম উদ্দিন বলেন, ১৯৯২ সালে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি কর্তৃক ৫ নম্বর লটারির মাধ্যমে সাতডালিয়া এলাকার ২৪ শেয়ার প্রাপ্ত হয়ে তারা ভোগদখলে আছেন। স্থানীয় মোহাম্মদ কালু ইট-কনক্রিট রাখার কথা বলে তাদের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে তারা তাকে নতুন করে ইজারা দেননি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জমির দখল বুঝিয়ে না দিয়ে নানা রকম তালবাহানা শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শরণাপন্ন হলে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরীকে বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাঁর বাসায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে মোহাম্মদ হোসেন কালুকে তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়। এরপর তারা প্রায় তিন মাস আগে ওই জায়গায় বাড়িঘর তৈরি করে কয়েকজন সদস্যকে বসতি স্থাপন করান।
তিনি আরও বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে কালুর নেতৃত্বে রাতের আঁধারে তাদের সদস্যদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এ সময় তিনজন সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম বলেন, তাদের প্রবীণ সদস্য আক্তার মাঝিসহ আরও দুই সদস্য রুকন উদ্দিন ও তানভীর ইসলামকে রাতের আঁধারে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
স্থানীয় মাওলানা আবদুস সালাম বলেন, তাদের এলাকার প্রায় ৬ হাজার মানুষের সম্পত্তি কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে কালু বাহিনী দফায় দফায় তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালাচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালুর নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ব্যাপক লুটপাট করে। তিনি লোকজনকে খবর দেন। তাদের লোকজন রাত ১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে দ্রুত অপহৃত সদস্যদের মুক্তি এবং কালুকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।




















