উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির পৃথক অভিযান: ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৩

- আপডেট সময় ০৭:২১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির পালংখালী ও বালুখালী বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ কৌশলের ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, কপিকল, ব্যাটারি, ইলেকট্রিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ার মনিরের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে মাচাংঘরের পাশে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে টহল দল চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামে দুজনকে আটক করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থান ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মোবাইল ফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ার টানার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যাটারি ও একটি ইলেকট্রিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাঠের তৈরি বিশেষ এই ডুবন্ত ক্যারিয়ারের মাধ্যমে একসঙ্গে আনুমানিক ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব। ক্যারিয়ারটি ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে নাফ নদী পার করে পালংখালীর ফাইস্যা খাল হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হতো।
খাল আঁকাবাঁকা হওয়ায় পাচারকারীরা কপিকল ও তারের সমন্বয়ে বিভিন্ন বাঁক অতিক্রম করে ক্যারিয়ারটি এগিয়ে নিত। এ পদ্ধতিতে তারা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ইয়াবা পরিবহন করতে সক্ষম হতো বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বালুখালী বিওপির নিয়মিত বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রকি আহমেদ (২৬) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই দিনে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পৃথক এ দুই অভিযানে মোট দুই লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।
৬৪ বিজিবি অধিনায়ক জানান, চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়ন মাদকবিরোধী অভিযানে আনুমানিক এক কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ২২৮ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিজিবির নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ায় মাদক চোরাকারবারিরা প্রচলিত পদ্ধতি বাদ দিয়ে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। তবে বিজিবির পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, দেশপ্রেম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।



















