বিএনপি সরকারের দ্বিচারিতা ও ভুল সিদ্ধান্তে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তায়—গণভোটের রায় উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই: হামিদ আযাদ

- আপডেট সময় ০৯:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
জুলাই জাতীয় সনদ কোনো রাজনৈতিক দলের দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে সম্মান করা সরকারের দায়িত্ব। অথচ বিএনপি সরকারের দ্বিচারিতাপূর্ণ অবস্থান, ভুল সিদ্ধান্ত ও পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনা ও জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, গণভোটে জনগণের রায় নেওয়া হবে, অথচ সেই রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে নানা অজুহাত, দ্বিধা ও টালবাহানা চলবে—এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণের রায় কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় কার্যকর করার বিষয় নয়। গণতন্ত্রে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক; কোনো দল বা সরকার জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে নয়।
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় থেকে সেই সংস্কার বাস্তবায়নে দ্বিধা দেখানো রাজনৈতিকভাবে স্ববিরোধী অবস্থান। দলীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারকে পিছিয়ে দেওয়া হলে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে কথার ওপর নয়, কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।
আমাদের দাবি পরিষ্কার—সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন বিতর্ক ও দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি না করে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি বন্ধ করে সংস্কার পরিষদকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা দলীয় স্বার্থের কারণে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা চলবে না।
রাষ্ট্র সংস্কার মানে শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এমন প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারই ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের অধিকার খর্ব করতে না পারে।
আমরা বিএনপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, রাজনৈতিক দ্বিচারিতা পরিহার করে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করুন এবং প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। জনগণকে আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই; এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অগ্রগতি ও কার্যকর বাস্তবায়ন।
জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কোনো দলের রাজনৈতিক পুঁজি নয়; এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক প্রত্যাশার প্রতীক। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সংস্কারের প্রশ্নে আপসকামিতা, কালক্ষেপণ ও দলীয় সুবিধাবাদ পরিহার করতে হবে।
আমাদের চূড়ান্ত বক্তব্য- সংবিধান সংশোধনের পথ পরিহার করে অবিলম্বে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক দায় এড়াতে পারে না। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর একমাত্র পথ হলো—জনগণের রায়কে মর্যাদা দেওয়া, সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা এবং জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।



















