কক্সবাজার ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাস্তা কম নেওয়া নিয়ে বিরোধ, ৯ দিন লাইফ সাপোর্টের পর অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুনের মৃ ত্যু

পটিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

মাত্র পাঁচ মাস আগে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সিফাতুন নুর। স্বামী প্রবাসে থাকায় থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু সেই নতুন সংসার ঘিরে তাঁর জীবনে কী চলছিল, তা নিয়ে এখন সামনে আসছে শারীরিক ও মানসিক নি/র্যাতনের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার নয় দিন পর, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ২২ বছর বয়সী এই গৃহবধূ। মৃ/ত্যুর সময় তিনি ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সিফাতুনের মৃ/ত্যু হয়। তাঁর মৃ/ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর। মেয়েকে হারিয়ে শোকের মধ্যে থাকা এই বাবা এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন।

 

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁর মাকে মা/র/ধ/র করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মা/র/ধ/র করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

 

ঘটনার পর সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃ/ত্যু হয়।

 

সিফাতুনের বাবা মো. নুরের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিফাতুন আ/ত্ম/হ/ত্যা/র চেষ্টা করেছেন—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।

 

সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তিনি সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার পর তাঁর মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে মা ও মেয়েকে মা/র/ধ/রে/র বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

 

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মা/র/ধ/রে/র একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ/ত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

মাত্র ২২ বছর বয়সে সিফাতুনের এই মৃ/ত্যু তাঁর পরিবারের জন্য এক গভীর শোকের ঘটনা। একদিকে মেয়েকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে কী ঘটেছিল তা জানার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে শোকের মধ্যে থাকা পরিবারটির এখন একটাই দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নাস্তা কম নেওয়া নিয়ে বিরোধ, ৯ দিন লাইফ সাপোর্টের পর অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুনের মৃ ত্যু

আপডেট সময় ০৯:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র পাঁচ মাস আগে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সিফাতুন নুর। স্বামী প্রবাসে থাকায় থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু সেই নতুন সংসার ঘিরে তাঁর জীবনে কী চলছিল, তা নিয়ে এখন সামনে আসছে শারীরিক ও মানসিক নি/র্যাতনের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার নয় দিন পর, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ২২ বছর বয়সী এই গৃহবধূ। মৃ/ত্যুর সময় তিনি ছিলেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সিফাতুনের মৃ/ত্যু হয়। তাঁর মৃ/ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর। মেয়েকে হারিয়ে শোকের মধ্যে থাকা এই বাবা এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন।

 

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁর মাকে মা/র/ধ/র করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মা/র/ধ/র করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

 

ঘটনার পর সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃ/ত্যু হয়।

 

সিফাতুনের বাবা মো. নুরের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিফাতুন আ/ত্ম/হ/ত্যা/র চেষ্টা করেছেন—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।

 

সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তিনি সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার পর তাঁর মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে মা ও মেয়েকে মা/র/ধ/রে/র বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

 

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মা/র/ধ/রে/র একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ/ত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

মাত্র ২২ বছর বয়সে সিফাতুনের এই মৃ/ত্যু তাঁর পরিবারের জন্য এক গভীর শোকের ঘটনা। একদিকে মেয়েকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে কী ঘটেছিল তা জানার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে শোকের মধ্যে থাকা পরিবারটির এখন একটাই দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।