কক্সবাজার ১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে নির্বাচনী এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনে যাবতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব – ড. হামিদুর রহমান আজাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংগঠনের একার পক্ষে জনগণের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকারে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমেই জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নেতৃত্বের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কোনোভাবেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। অর্থের কাছে আদর্শ বিকিয়ে দেওয়া যাবে না। আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনে যাবতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাসহ জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে জামায়াতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। নীতি ও আদর্শের কারণে গণমানুষের সমর্থন জামায়াতের প্রতি রয়েছে। প্রার্থীদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এই জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়াবে।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র আট মাসের মাথায় কোনো সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে এসেছে। মানুষের মুখে মুখে সরকারের ব্যর্থতার আলোচনা চলছে। একটি সরকার কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালোটাকার ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ কিংবা ভোট কারচুপির যেকোনো ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর চকবাজারস্থ আনিকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনী এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের বিষয়ে সরকারের অনীহা রাজনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হলে সরকারকেই তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মনিবন্ধনসহ দৈনন্দিন নাগরিক সেবা পেতেও মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই জনগণের নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিও যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনী এজেন্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতা অর্জনের জন্য তৃণমূল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত এজেন্ট নিশ্চিত করা, ভোটার তালিকা পর্যালোচনা এবং নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা অর্জন করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

 

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ও মাস্টার ট্রেইনার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মাস্টার ট্রেইনার প্রফেসর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলা এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ শফিউল আলম। দারসুল কুরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. ছাবের আহমদ।

 

কর্মশালায় নগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহফুজুল আলমসহ মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে নির্বাচনী এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনে যাবতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব – ড. হামিদুর রহমান আজাদ

আপডেট সময় ০৬:২৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংগঠনের একার পক্ষে জনগণের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকারে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমেই জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নেতৃত্বের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কোনোভাবেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। অর্থের কাছে আদর্শ বিকিয়ে দেওয়া যাবে না। আদর্শিক জনশক্তি থাকলে নির্বাচনে যাবতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাসহ জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে জামায়াতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। নীতি ও আদর্শের কারণে গণমানুষের সমর্থন জামায়াতের প্রতি রয়েছে। প্রার্থীদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এই জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়াবে।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র আট মাসের মাথায় কোনো সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে এসেছে। মানুষের মুখে মুখে সরকারের ব্যর্থতার আলোচনা চলছে। একটি সরকার কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালোটাকার ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ কিংবা ভোট কারচুপির যেকোনো ষড়যন্ত্র জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর চকবাজারস্থ আনিকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনী এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের বিষয়ে সরকারের অনীহা রাজনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হলে সরকারকেই তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মনিবন্ধনসহ দৈনন্দিন নাগরিক সেবা পেতেও মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই জনগণের নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিও যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনী এজেন্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতা অর্জনের জন্য তৃণমূল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত এজেন্ট নিশ্চিত করা, ভোটার তালিকা পর্যালোচনা এবং নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা অর্জন করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

 

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ও মাস্টার ট্রেইনার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মাস্টার ট্রেইনার প্রফেসর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলা এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ শফিউল আলম। দারসুল কুরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. ছাবের আহমদ।

 

কর্মশালায় নগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহফুজুল আলমসহ মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।