কক্সবাজার ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পালংখালীতে অপহরণ ও নির্যাতনের পর : ফেসবুকে অস্ত্রের ভিডিও প্রকাশ করেন হামিদ প্রধান

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১০:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমজান আলী (পিতা-বাদশাহ মিয়া) অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। পালংখালী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় সন্ত্রাসী দলের মূল হোতা হামিদ গ্রুপের নেতৃত্বে তাঁকে অপহরণ করে গোপন টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর প্রথমে তাঁকে নলবনিয়া স্বাস্থ্য ক্লিনিক এলাকায় নেওয়া হয়। পরে হামিদ গ্রুপের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রুপ প্রধান হামিদ নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে রমজান আলীর হাতে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন,
“আমার স্বামী দিনে এনে দিনে খায়। প্রতিদিনের মতো ২৫ তারিখও মানুষের বাড়িতে কাজ শেষে বাজার থেকে ঘরের জন্য জিনিস কিনে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। আমার স্বামী কোনো খারাপ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করে না। টাকার অভাবে নিজের ঘরটাও মেরামত করতে পারেনি। এখন শুনছি তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি স্থানীয় মান্যগণ্য, প্রশাসন ও সরকারের কাছে স্বামীর নিরাপত্তা চাই।”

 

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, অপহরণে জড়িতদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে তারা হলেন—১. হামিদ (পিতা-জাহেদ আলম) ২. সোহেল (পিতা-বশির, ডাকাত নামে পরিচিত)৩. নুরুল
ইসলাম (পিতা-আমিরুজ্জামান)
এরা সকলেই পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রমজান আলী বলেন,
“আমি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে পড়ে যাই। তারা আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে সারারাত নির্যাতন চালায়। পরে আমার হাতে অস্ত্র ধরিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এ বিষয়ে হামিদ গ্রুপের প্রধান হামিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র জানায় থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পালংখালীতে অপহরণ ও নির্যাতনের পর : ফেসবুকে অস্ত্রের ভিডিও প্রকাশ করেন হামিদ প্রধান

আপডেট সময় ১০:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমজান আলী (পিতা-বাদশাহ মিয়া) অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। পালংখালী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় সন্ত্রাসী দলের মূল হোতা হামিদ গ্রুপের নেতৃত্বে তাঁকে অপহরণ করে গোপন টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর প্রথমে তাঁকে নলবনিয়া স্বাস্থ্য ক্লিনিক এলাকায় নেওয়া হয়। পরে হামিদ গ্রুপের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে রাতভর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রুপ প্রধান হামিদ নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে রমজান আলীর হাতে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন,
“আমার স্বামী দিনে এনে দিনে খায়। প্রতিদিনের মতো ২৫ তারিখও মানুষের বাড়িতে কাজ শেষে বাজার থেকে ঘরের জন্য জিনিস কিনে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। আমার স্বামী কোনো খারাপ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করে না। টাকার অভাবে নিজের ঘরটাও মেরামত করতে পারেনি। এখন শুনছি তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি স্থানীয় মান্যগণ্য, প্রশাসন ও সরকারের কাছে স্বামীর নিরাপত্তা চাই।”

 

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, অপহরণে জড়িতদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে তারা হলেন—১. হামিদ (পিতা-জাহেদ আলম) ২. সোহেল (পিতা-বশির, ডাকাত নামে পরিচিত)৩. নুরুল
ইসলাম (পিতা-আমিরুজ্জামান)
এরা সকলেই পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রমজান আলী বলেন,
“আমি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে পড়ে যাই। তারা আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে সারারাত নির্যাতন চালায়। পরে আমার হাতে অস্ত্র ধরিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এ বিষয়ে হামিদ গ্রুপের প্রধান হামিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র জানায় থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।