বৃটিশ পররাষ্ট্রনীতির বড় পরিবর্তন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিচ্ছেন স্টারমার

- আপডেট সময় ১২:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৮৬ বার পড়া হয়েছে
ডেস্ক নিউজ:
যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নগ্নভাবে ইসরাইলের পক্ষ নিয়েছে, তাদেরকে অস্ত্র সহ যুদ্ধের সব রসদ সরবরাহ করছে, তখন নির্যাতিত, নিপীড়িত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিচ্ছে বৃটেন। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার আজ রবিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেবেন। এমন আশা করে খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন বিবিসি। জুলাই মাসে স্টারমার বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসরাইল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির (যার ভিত্তি হবে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান) পথে অগ্রসর না হলে বৃটেন তার অবস্থান বদলাবে। এটি বৃটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় পরিবর্তন। এতদিন ধারাবাহিক সরকারগুলো বলে আসছিল, স্বীকৃতি আসবে কেবল শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারের উপযুক্ত সময়ে।
তবে এই পদক্ষেপ ইসরাইলি সরকার, জিম্মি পরিবারের সদস্য এবং কিছু কনজারভেটিভ নেতার কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু বৃটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আশাকে জীবিত রাখতে নৈতিক দায়িত্ব থেকেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। তারা গাজার দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতার ছবি তুলে ধরে বলছেন, এসব প্রধানমন্ত্রী ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইসরাইলের সর্বশেষ স্থল অভিযানকে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা ‘প্রলয়ঙ্করী’ বলে আখ্যা দেন। এ অভিযানে লাখ লাখ মানুষকে গৃহহীন করেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন উপসংহারে পৌঁছেছে যে, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। ইসরাইল অবশ্য একে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে। বৃটিশ মন্ত্রীদের মতে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি এই সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা রেখেছে। আইনমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, বিশেষ করে বিতর্কিত ‘ই১’ বসতি প্রকল্প কার্যকর হলে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ মাসের শুরুতে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে বৃটেনের এই প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। দু’পক্ষই একমত হন যে, ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। এদিকে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাদেনোক বলেন, তিনি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান চান।
কিন্তু এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া মানে হবে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা।’ একইসঙ্গে, জিম্মিদের পরিবারগুলোও এক খোলা চিঠিতে স্টারমারকে অনুরোধ করেছে যেন ৪৮ জন অবশিষ্ট জিম্মি মুক্ত হওয়ার আগে এ সিদ্ধান্ত না নেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সপ্তাহগুলোতে হামাসের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে বৃটেন সফরে আছেন। তিনিও এই স্বীকৃতির বিরোধিতা করছেন। স্টারমার এর আগে জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সময়সীমা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। জুলাইয়ে তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই বলেছি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেব শান্তি প্রক্রিয়ায় সঠিক অবদান হিসেবে এবং সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারের মুহূর্তে।
এখন যেহেতু দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান হুমকির মুখে। তাই এটিই কাজ করার সময়। পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও শিগগিরই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে ইতিমধ্যেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ ভাগই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই- যা এ স্বীকৃতিকে মূলত প্রতীকী করে তোলে। লেবার পার্টির মধ্যে অনেক দিন ধরেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি ছিল। বিশেষত দলের বামপন্থী এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছিলেন। জুলাইয়ের ভাষণের আগে অর্ধেকেরও বেশি লেবার এমপি এক চিঠিতে সরকারের কাছে তাৎক্ষণিক স্বীকৃতির দাবি জানান।
সমালোচকরা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন কেন সরকার ইসরাইলের জন্য শর্ত নির্ধারণ করেছে। কিন্তু হামাসের জন্য করেনি। বৃটেনের প্রধান রাবি স্যার এফ্রেইম মিরভিস বলেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে অন্ততপক্ষে জিম্মিদের মুক্তি বা একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি সরকার থাকা উচিত। সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে জিম্মিদের মুক্ত করতে ও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বলা হয়েছিল এবং এই দাবি অপরিবর্তিত আছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার। এটা হামাসের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। স্টারমার পুনরায় বলেন, হামাসের ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনে শাসনব্যবস্থায় কোনো ভূমিকা থাকবে না।
সূত্র : মানবজমিন
















