কক্সবাজার ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্বৃত্তদের থাবায় কৃষিজমির টপসয়েল, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা

তোফায়েল আহমেদ
  • আপডেট সময় ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এলাকাজুড়ে অবাধে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে কৃষি ও পরিবেশ। স্থানীয় প্রভাবশালী দুর্বৃত্তচক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়লেও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে প্রশাসন—এমন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, রাতের আঁধার কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই মাটি ইটভাটা, ভরাট প্রকল্প ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে গর্তে ভরা অনুর্বর ভূমিতে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, টপসয়েল কেটে নেওয়ার পর জমিতে আর ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “বছরের পর বছর যে জমিতে ধান, সবজি ফলিয়েছি, এখন সেখানে চাষ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।” অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি পরিত্যাগ করার কথা ভাবছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, টপসয়েল ধ্বংস হলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। পানির ধারণক্ষমতা কমে যায়, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকিতে পড়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সমর্থন ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে টপসয়েল লুট সম্ভব নয়। একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্বৃত্তদের থাবায় কৃষিজমির টপসয়েল, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা

আপডেট সময় ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এলাকাজুড়ে অবাধে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে কৃষি ও পরিবেশ। স্থানীয় প্রভাবশালী দুর্বৃত্তচক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়লেও বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে প্রশাসন—এমন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, রাতের আঁধার কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই মাটি ইটভাটা, ভরাট প্রকল্প ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে গর্তে ভরা অনুর্বর ভূমিতে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, টপসয়েল কেটে নেওয়ার পর জমিতে আর ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “বছরের পর বছর যে জমিতে ধান, সবজি ফলিয়েছি, এখন সেখানে চাষ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।” অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি পরিত্যাগ করার কথা ভাবছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, টপসয়েল ধ্বংস হলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। পানির ধারণক্ষমতা কমে যায়, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকিতে পড়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সমর্থন ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে টপসয়েল লুট সম্ভব নয়। একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।