কক্সবাজারে বিশুদ্ধ পানির নামে বিষপান!

- আপডেট সময় ০৬:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
বিশুদ্ধ পানির নামে জারে করে কী পান করছেন কক্সবাজার শহরবাসী এ প্রশ্ন এখন জনমনে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে জারে পানি ভর্তি করে অফিস, প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন ও পানির গুণগত মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন নামে প্রায় ১০–১২টি প্রতিষ্ঠান জারভর্তি পানি সরবরাহ করছে। এসব পানির উৎস কোথায়, কীভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে এবং নিয়মিত মান পরীক্ষা করা হয় কি না তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বোতলজাত ও প্যাকেটজাত পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের ভৌত, রাসায়নিক ও জীবাণুবিষয়ক পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন বা মাননিয়ন্ত্রণের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই শুধু জারে বিএসটিআইয়ের লেভেল লাগিয়ে পানি বাজারজাত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিধিবিধান অমান্য করেই কক্সবাজার জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও চলছে পানির নামে প্রতারণা। কক্সবাজার শহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কক্স বে ড্রিংকিং ওয়াটার, দ্য রেইন ড্রিংকিং ওয়াটার, দারুচিনি, নীলগিরি, আল মদিনা, বেঙ্গল ড্রিংকিং ওয়াটার, আপন ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রেসলাইভ পানি, জমজম ড্রিংকিং ওয়াটারসহ অনেকগুলো কারখানার পানি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই কোনো লাইসেন্স। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিস ড্রিংকিং ওয়াটার, রিয়েল কক্স ও হিমছড়ির অনুমোদন থাকলেও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই। প্রতারণার দায়ে দারুচিনি বেঙ্গল ড্রিংকিং ওয়াটার, আপন ড্রিংকিং ওয়াটার ও প্রেসলাইভ পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএসটিআই কক্সবাজার অফিস। বাকিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে অবাধে পিওর ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটারের নামে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি শহরের কোরাললিফ সেন্টারের একটি দোকানে জমজম ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানার ২০ লিটারের বোতলজারে পাওয়া যায় পোকা। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিএসটিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক সজীব চৌধুরী জানান, ২/৩ টা অন্যান্য পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই।
এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হয়ে থাকে।
শিক্ষাবীদ শাহীন জানান,
বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা ছাড়া দূষিত পানি পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন অনিরাপদ পানি গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
হাসান নামে এক ভোক্তার অভিযোগ, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পানির উৎস, পরিশোধন ব্যবস্থা, জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি ও পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পর্কে তাদের জানানো হয় না। ফলে জারে আসলে কী ধরনের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শহরবাসীর দাবি, বিএসটিআই অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পানির উৎস, উৎপাদন ও পরিশোধন প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষার রিপোর্ট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ভোক্তারা বলছেন, শুধু জারে ‘বিশুদ্ধ পানি’ লিখে দিলেই পানি নিরাপদ হয়ে যায় না। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে পানির মান পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
চলছে পানি নিয়ে অভিনব প্রতারণা। নামসর্বস্ব ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে পিওর ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটারের নামে দেদার বিক্রি করা হচ্ছে অনুমোদনহীন কারখানার পানি। এ ধরনের কারখানা নির্মাণে মানা হয়নি কোনো রকমের বিধিমালা। জরাজীর্ণ স্যাঁতসেঁতে জায়গায় সরাসরি মোটর থেকে জারে ঢোকানো হয় পানি। সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতার সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদের বিধান থাকলেও এসবের একটিও নেই কারখানাগুলোতে। এমনকি এসব কারখানায় নিজস্ব ল্যাব বা কেমিস্ট পর্যন্ত নেই।
ইতিপূর্বে শহরের আলী জাহাল এলাকার ‘দারুচিনি’, বিডিআর ক্যাম্প এলাকার ‘বে’ ও রুমালিয়ার ছড়া এলাকার ‘হিমছড়ি’ নামের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সীলগালা করা হয়েছিল।
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল।



















