কক্সবাজার ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দশক ধরে সংস্কারহীন ঢেমুশিয়া ও কোনাখালীর সংযোগ বেইলি ব্রিজ

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ১৭০ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নির্মাণের পর দীর্ঘ ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সংস্কারের ছোঁয়া। ফলে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া এবং কোনাখালী ইউনিয়নের সংযোগ এস্তলে নির্মিত বেইলি সেতুটি। ২০০৪ সালে সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার মেরামত বা সংস্কার কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ দুই দশক ধরে কোনো তদারকি না থাকায় সেতুর ওপরের লোহার ও কাঠের পাটাতনগুলো ভেঙে আলগা হয়ে গেছে। বেশ কিছু জায়গায় বড় বড় গর্ত বা ছিদ্র তৈরি হয়েছে, যেখান দিয়ে নিচের নদী বা খাল স্পষ্ট দেখা যায়। হালকা কোনো যানবাহন উঠলেই পুরো সেতুটি কাঁপতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাটাতন নড়বড়ে হওয়ায় প্রায়শই অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলা এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

সেতুটির এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী এবং কৃষকেরা। ভাঙা সেতুর কারণে এই রুটে ভারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না, যার কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভাঙা সেতুর কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি আসতে চায় না, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় জমির উদ্দিন বলেন, “২০০৪ সালে এই সেতুটি হওয়ার পর আমাদের অনেক উপকার হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ এটা মেরামত করতে আসেনি। এখন এই সেতু দিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের প্রতিদিন বুক কাঁপে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সংস্কার বা একটি নতুন কংক্রিটের সেতু চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, বড় কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বেইলি সেতুটি সংস্কার করে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই দশক ধরে সংস্কারহীন ঢেমুশিয়া ও কোনাখালীর সংযোগ বেইলি ব্রিজ

আপডেট সময় ০১:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নির্মাণের পর দীর্ঘ ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সংস্কারের ছোঁয়া। ফলে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ঢেমুশিয়া এবং কোনাখালী ইউনিয়নের সংযোগ এস্তলে নির্মিত বেইলি সেতুটি। ২০০৪ সালে সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার মেরামত বা সংস্কার কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ দুই দশক ধরে কোনো তদারকি না থাকায় সেতুর ওপরের লোহার ও কাঠের পাটাতনগুলো ভেঙে আলগা হয়ে গেছে। বেশ কিছু জায়গায় বড় বড় গর্ত বা ছিদ্র তৈরি হয়েছে, যেখান দিয়ে নিচের নদী বা খাল স্পষ্ট দেখা যায়। হালকা কোনো যানবাহন উঠলেই পুরো সেতুটি কাঁপতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাটাতন নড়বড়ে হওয়ায় প্রায়শই অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলা এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

সেতুটির এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী এবং কৃষকেরা। ভাঙা সেতুর কারণে এই রুটে ভারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না, যার কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভাঙা সেতুর কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি আসতে চায় না, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় জমির উদ্দিন বলেন, “২০০৪ সালে এই সেতুটি হওয়ার পর আমাদের অনেক উপকার হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ এটা মেরামত করতে আসেনি। এখন এই সেতু দিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের প্রতিদিন বুক কাঁপে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সংস্কার বা একটি নতুন কংক্রিটের সেতু চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, বড় কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই বেইলি সেতুটি সংস্কার করে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করে।