টেকনাফে সাগরপথে পাচারের প্রাক্কালে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ পাচারচক্রের ২ জনকে আটক করেছে বিজিবি

- আপডেট সময় ১১:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
টেকনাফ প্রতিনিধি:
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য রোধে সর্বদা তৎপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আবারও বড় ধরনের সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) গভীর রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর একটি বিশেষ অভিযান দল মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুন্ডার ডেইল ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সমুদ্র পথে পাচারের প্রাক্কালে ৭ জন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং মানব পাচার চক্রের ২ সদস্যকে আটক করে।
বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—খুরেরমুখ চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কাটাবুনিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলার প্রস্তুত রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় ২ বিজিবির বিশেষ দল স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় সন্দেহজনক ট্রলারটি ঘিরে ফেলে।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে মুন্ডার ডেইল সংলগ্ন শিশু পার্ক এলাকায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণে আনে বিজিবি সদস্যরা। পরে ট্রলার তল্লাশিতে ৭ জন ভুক্তভোগী—৬ জন পুরুষ ও ১ জন নারী—কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী সেজে ট্রলারে থাকা পাচার চক্রের সদস্য মোঃ আলম (১৯)-কে আটক করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করে ফাঁদ পেতে একই চক্রের আরেক সদস্য ইসমাঈল (২৮)-কে রাত ৮ ঘটিকায় আটক করে বিজিবি।
আটককৃতরা হলেন: মো. আলম (১৯), পিতা—আব্দুর রহমান, ঠিকানা—কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্প, উখিয়া। ইসমাঈল (২৮), পিতা—আবু তাহের, ঠিকানা—পুরানপল্লানপাড়া, টেকনাফ।
পলাতক: ইউসুফ (২২), পিতা—মৃত হাকিম আলী, ঠিকানা—পুরানপল্লানপাড়া, টেকনাফ (বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা জানান—চক্রের কয়েকজন দোসর তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজ কর্মসংস্থান, কম খরচে বিদেশ যাত্রা, এমনকি ভিসাসহ বিমানে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। পরে মাথাপিছু অর্থের বিনিময়ে পাচারকারী চক্রের কাছে তাদের ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটির মালয়েশিয়াস্থ একটি নেটওয়ার্ক মানব পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
(২ বিজিবি)র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন—“আজকের রাতটি টেকনাফ সীমান্তের মানব পাচারকারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের জন্য এক চরম দুঃসংবাদ। মানব পাচার বিরোধী সফল অভিযানগুলোই প্রমাণ করে—টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত কোথাও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় নেই। মানবতা বিরোধী এই জঘন্য অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃত পাচারকারী সদস্য ও উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।
















