কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসন
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসন : মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার, মোট কেন্দ্র ১১১, বুথ ৭৩৪

- আপডেট সময় ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪৯৭৪ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার:
# উখিয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা: ১,৭২,৮৮৪
# টেকনাফে মোট ভোটার সংখ্যা: ২,০০,২৪৬
# ১১১ কেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা: ৭৩৪
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৮,২৯,১৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯,৬৬,০২৮ জন, মহিলা ভোটার ৮,৬৩,১০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার মাত্র ৬ জন।
জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭৩,১৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯১,২১০ জন, মহিলা ভোটার ১,৮১,৯১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) সংসদীয় আসন: মোট ভোটার ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার, মোট কেন্দ্র ১৭৫, বুথ ১০০৬
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিলো ৩,২৬,৯৭১ জন। এ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার বেড়েছে ৪৬,১৬৩ জন। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে কক্সবাজার-৪ আসনে।
কক্সবাজার-৪ আসনটি উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত। উখিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,৭২,৮৮৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৯,০৪৩ জন, মহিলা ভোটার ৮৩,৮৩৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। টেকনাফ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২,০০,২৪৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,০২,১৬৭ জন, মহিলা ভোটার ৯৮,০৭৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১১১টি। উখিয়া উপজেলায় ৫১টি কেন্দ্র এবং টেকনাফ উপজেলায় ৬০টি কেন্দ্র রয়েছে। যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল ১০৪টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উখিয়া উপজেলায় ৪টি এবং টেকনাফ উপজেলায় ৩টি বৃদ্ধি পেয়ে মোট প্রস্তাবিত ১১১টি ভোট কেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ৭৩৪টি, যার মধ্যে পুরুষ বুথ ৩৫৪টি এবং মহিলা বুথ ৩৮০টি। একইদিনে সরকার গণভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অস্থায়ী ৫১টি বুথ যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে উখিয়ায় ১৫টি এবং টেকনাফে ৩৬টি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) সংসদীয় আসন: মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৮২ হাজার, মোট কেন্দ্র ১১৯, বুথ ৭২০
স্বাধীনতার পর কক্সবাজার মহকুমা থাকাকালে এই আসনটি চট্টগ্রাম-১৮ নামে পরিচিত ছিল। তখন উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার সঙ্গে রামু উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। চট্টগ্রাম-১৮ আসনে থাকাকালীন সময়ে,
—১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী,
—১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচিত হন।
এরপর ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার মহকুমা জেলা হিসেবে উন্নীত হলে অন্যান্য আসনের সঙ্গে পুনর্বিন্যাস করে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে বর্তমান কক্সবাজার-৪ আসনটি গঠিত হয়। তখন থেকে
—১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হতে আবদুল গফুর চৌধুরী,
—১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল গণি,
—১৯৯১ সালে ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হতে পর পর দুইবার শাহজাহান চৌধুরী,
—১৯৯৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হতে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী,
—২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হতে তৃতীয়বারের মতো শাহজাহান চৌধুরী,
—২০০৮ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হতে আবদুর রহমান বদি,
—২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ ও দ্বাদশ বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হতে শাহীন আক্তার পর পর ২ বার এমপি নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) সংসদীয় আসন: মোট ভোটার ৫ লক্ষ ৪০ হাজার, মোট কেন্দ্র ১৮১, বুথ ১১০২
বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন:
বিএনপি থেকে ৪ বারের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক হুইপ ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, জেলা জামায়াতের আমীর, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, এবি পার্টি থেকে দলের কেন্দ্রীয় শরনার্থী বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, এনসিপি থেকে জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মনোনয়ন পেয়েছেন।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া ও টেকনাফ) ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত এবং মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আলোচিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। এ আসনেই অবস্থান করছে প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা অবস্থানের কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সবসময় এই আসনের দিকে নিবদ্ধ থাকে। এসব কারণে কক্সবাজার-৪ আসনকে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জনমুখে এ আসনটি ‘লক্ষী আসন’ হিসেবেও পরিচিত। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই আসনে যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সাধারণত সেই দলই সরকার গঠন করে থাকে।
















