মানবতা, উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করতে হবে: ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম

- আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৩২ বার পড়া হয়েছে
মহেশখালী প্রতিনিধি:
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকের টাইমবাজারে ১১ দলীয় জোটের এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ, বীর বিক্রম বলেন, প্রকৃত ধার্মিকদের হাতে কখনো কোনো অমুসলিম ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তিনি বলেন, প্রকৃত মুসলমান হিসেবে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি।
ড. অলি আহমেদ বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই ঈমানদার, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়া ও মাতারবাড়ির স্বার্থ রক্ষায় ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা জনগণকে নেতা বাছাই করার ক্ষমতা দিয়েছেন। যদি অসৎ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তাহলে জনগণকে পাঁচ বছর তার খেসারত দিতে হয়। তাই মানবতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বৈজ্ঞানিক যুগে প্রবেশ করতে হবে—প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও যুবকদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসলাম অমুসলিমদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইতিহাসে নবীজি (সা.)-এর শাসনামলে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করেছে—এটাই ইসলামের শিক্ষা।
তিনি বলেন, ‘ফোর পিলার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় মহেশখালী বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। মিডার মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দরও গড়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ। এই বন্দর বাস্তবায়িত হলে কম খরচে ও কম সময়ে পণ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, ফলে নিত্যপণ্যের দাম কমবে এবং জীবনমান উন্নত হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ট্রানশিপমেন্ট পোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়বে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—নেতাদের ভাগ্য বদলাবে, নাকি জনগণের? সৎ নেতৃত্ব থাকলে জনগণের ভাগ্য বদলায়, আর দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়—অতীতে যার দৃষ্টান্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর সব মেগা প্রকল্প পরিবেশবান্ধব উপায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর হতে দেওয়া হবে না।
‘ফোর পিলার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্থানীয় মানুষ উচ্ছেদ হলেও নিজ ভূমিতে গড়ে ওঠা প্রকল্পে চাকরি পাচ্ছে না।
তিনি জানান, তিনি মিডার চেয়ারম্যানকে স্পষ্টভাবে বলেছেন—সব প্রকল্পে স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। এজন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে, যাতে এখানকার সন্তানরা দেশ ও দেশের বাইরে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও গুরুত্ব পাবে।
মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মেগা প্রকল্পগুলোর সফলতার জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। মহেশখালী–কক্সবাজার সেতুর ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৬ সালেই কাজ শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, লবণ আমদানি বন্ধ করে রপ্তানিমুখী পণ্য হিসেবে গড়ে তোলা এবং পানের জিআই স্বীকৃতির দাবিও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যাদের পায়ের নিচে মাটি নেই তারাই মিথ্যা অপবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
কর্নেল অলি আহমেদের প্রতি বিদ্রূপমূলক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সমাজে গুণীজনের কদর নেই, সেখানে নতুন গুণী জন্ম নেয় না।
পথসভায় মহেশখালী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
















