কক্সবাজার ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামের ইতিহাসে হিজরত ও আশুরার গুরুত্ব

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ১৭০ বার পড়া হয়েছে

মহাকালের আবর্তনে আমাদের মাঝে আবারও হাজির হয়েছে পবিত্র আশুরা। হিজরি সনের সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং ইসলামের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় ‘আশুরা’। মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে এই দুটি ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত হিজরত ও আশুরা—উভয় ঘটনাই মুসলিম উম্মাহর ঈমানি চেতনা, ত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয়ের এক চিরন্তন স্মারক।

 

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররম হলো স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলার মাস (সহিহ মুসলিম- ১১৬৩; তিরমিযী- ৭৪১)। পবিত্র কুরআনে যে চারটি মাসকে সম্মানিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম তার অন্যতম (সূরা তওবা: ৩৬)।

 

ঐতিহাসিক হিজরত:

ইসলামের ইতিহাসে রাসূল (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত কেবল একটি স্থান পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল এক যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। বিশ্বাসগত মজবুত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিধান প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। মক্কায় বৈরী পরিবেশের কারণে যখন দাওয়াতি মিশনের সার্বিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশেই অনুকূল পরিবেশের কারণে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ আসে।

 

হিজরতের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রক্তের বা বংশের বন্ধনের চেয়ে ঈমানি বন্ধন পৃথিবীতে অনেক বেশি শক্তিশালী। মক্কায় আপন চাচা আবু তালিবের নেতৃত্বে বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সার্বিক সহযোগিতা করলেও তা টেকসই হয়নি। অবশেষে ঈমানি বন্ধনের আকর্ষণে রাসূল (সা.)-কে সুদূর মদিনায় হিজরত করতে হয় এবং সেখানে গিয়ে তিনি নতুন ঈমানি সমাজের গোড়াপত্তন করেন।

 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) হিজরতকে ‘হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন (সহিহ বুখারী- ১২৯৫)। এই হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে ১৭ হিজরি সনে সাহাবিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘হিজরি সন’ গণনা শুরু হয় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া : ৪/৫১৭)। হিজরতের সুফল হিসেবেই মদিনায় ইসলামের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিধানসমূহ পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ—সিয়াম, যাকাত ও হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ হিজরতের পরেই মদিনায় ফরজ হয়েছিল।

 

হিজরতের ফলে মদিনায় পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ প্রণীত হয়। এর মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষা করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা বিশ্ববাসীকে ইসলামের উদারতা ও মহানবী (সা.)-এর রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়।

 

আশুরার তাৎপর্য:

ঐতিহাসিকভাবে আশুরার দিনটি বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনায় সমৃদ্ধ। সহিহ হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, এই মোবারক দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.) ও বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে উদ্ধার করেছিলেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ লোহিত সাগরে নিমজ্জিত করেছিলেন। একই দিনে হযরত নূহ (আ.)-এর কিশতি বা নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে জূদী পর্বতে স্থির হয়েছিল (সহিহ বুখারী- ২০০৪)। এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ হযরত নূহ (আ.) ও হযরত মূসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।

 

মদিনায় আগমনের পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছিলেন, “মূসা (আ.)-এর অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।” এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারী- ২০০৪, সহিহ মুসলিম- ১১৩০)। তবে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করার জন্য তিনি ১০ মহররমের সাথে ৯ তারিখে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার তাগিদ দেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তবে মহররমের ৯ ও ১০ দুদিনই রোজা রাখব” (সহিহ মুসলিম- ১৯১৬)।

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের সিয়াম” (সহিহ মুসলিম- ১১৬৩, ১৯৮২)। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আশুরার দিনের একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন (সহিহ মুসলিম- ১৯৭৬)। এছাড়া মুহাররম এমন একটি মাস, যাতে আল্লাহ অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন (তিরমিযী- ৭৪১)।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা:

চলতি বছর আমরা হিজরি নববর্ষের এমন এক মহিমান্বিত সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন আমাদের সামনে আজকের এই পবিত্র জুমাবার মহররমের ১০ তারিখ তথা পবিত্র আশুরার দিন। হিজরত ও আশুরা আমাদের কেবল অতীতের ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না, বরং তা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এক গভীর নৈতিক শিক্ষা দেয়। হিজরতের ত্যাগ আমাদের শেখায় দ্বীন ও সত্যের স্বার্থে পার্থিব সবকিছু বিসর্জন দিতে। আর আশুরা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জুলুম ও অন্যায়ের শক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, চূড়ান্ত বিজয়ী হয় সত্য ও ন্যায়।

 

হিজরত যেমন আমাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রেরণা দেয়, তেমনি আশুরার রোজা ও ইবাদত আমাদের মনে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। তাই আশুরার এইদিনে আমরা যদি আশুরার শিক্ষাকে পুঁজি করে অন্যায় ও জুলুমের পথ ত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শপথ গ্রহণ করি, তবেই সার্থক হবে আমাদের এই নতুন বছর। আল্লাহ তাআলা আমাদের আশুরার পবিত্রতা রক্ষা করার এবং হিজরতের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দ্বীনের পথে অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

আলী ওসমান শেফায়েত

লেখক ও কলামিস্ট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামের ইতিহাসে হিজরত ও আশুরার গুরুত্ব

আপডেট সময় ১১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মহাকালের আবর্তনে আমাদের মাঝে আবারও হাজির হয়েছে পবিত্র আশুরা। হিজরি সনের সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং ইসলামের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় ‘আশুরা’। মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে এই দুটি ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত হিজরত ও আশুরা—উভয় ঘটনাই মুসলিম উম্মাহর ঈমানি চেতনা, ত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয়ের এক চিরন্তন স্মারক।

 

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররম হলো স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলার মাস (সহিহ মুসলিম- ১১৬৩; তিরমিযী- ৭৪১)। পবিত্র কুরআনে যে চারটি মাসকে সম্মানিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম তার অন্যতম (সূরা তওবা: ৩৬)।

 

ঐতিহাসিক হিজরত:

ইসলামের ইতিহাসে রাসূল (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত কেবল একটি স্থান পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল এক যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। বিশ্বাসগত মজবুত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিধান প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। মক্কায় বৈরী পরিবেশের কারণে যখন দাওয়াতি মিশনের সার্বিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশেই অনুকূল পরিবেশের কারণে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ আসে।

 

হিজরতের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রক্তের বা বংশের বন্ধনের চেয়ে ঈমানি বন্ধন পৃথিবীতে অনেক বেশি শক্তিশালী। মক্কায় আপন চাচা আবু তালিবের নেতৃত্বে বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সার্বিক সহযোগিতা করলেও তা টেকসই হয়নি। অবশেষে ঈমানি বন্ধনের আকর্ষণে রাসূল (সা.)-কে সুদূর মদিনায় হিজরত করতে হয় এবং সেখানে গিয়ে তিনি নতুন ঈমানি সমাজের গোড়াপত্তন করেন।

 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) হিজরতকে ‘হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন (সহিহ বুখারী- ১২৯৫)। এই হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে ১৭ হিজরি সনে সাহাবিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘হিজরি সন’ গণনা শুরু হয় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া : ৪/৫১৭)। হিজরতের সুফল হিসেবেই মদিনায় ইসলামের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিধানসমূহ পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ—সিয়াম, যাকাত ও হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ হিজরতের পরেই মদিনায় ফরজ হয়েছিল।

 

হিজরতের ফলে মদিনায় পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ প্রণীত হয়। এর মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষা করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা বিশ্ববাসীকে ইসলামের উদারতা ও মহানবী (সা.)-এর রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়।

 

আশুরার তাৎপর্য:

ঐতিহাসিকভাবে আশুরার দিনটি বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনায় সমৃদ্ধ। সহিহ হাদিসের বিবরণ অনুযায়ী, এই মোবারক দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.) ও বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে উদ্ধার করেছিলেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ লোহিত সাগরে নিমজ্জিত করেছিলেন। একই দিনে হযরত নূহ (আ.)-এর কিশতি বা নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে জূদী পর্বতে স্থির হয়েছিল (সহিহ বুখারী- ২০০৪)। এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ হযরত নূহ (আ.) ও হযরত মূসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।

 

মদিনায় আগমনের পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখে আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছিলেন, “মূসা (আ.)-এর অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।” এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারী- ২০০৪, সহিহ মুসলিম- ১১৩০)। তবে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করার জন্য তিনি ১০ মহররমের সাথে ৯ তারিখে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার তাগিদ দেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তবে মহররমের ৯ ও ১০ দুদিনই রোজা রাখব” (সহিহ মুসলিম- ১৯১৬)।

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের সিয়াম” (সহিহ মুসলিম- ১১৬৩, ১৯৮২)। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আশুরার দিনের একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন (সহিহ মুসলিম- ১৯৭৬)। এছাড়া মুহাররম এমন একটি মাস, যাতে আল্লাহ অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন (তিরমিযী- ৭৪১)।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা:

চলতি বছর আমরা হিজরি নববর্ষের এমন এক মহিমান্বিত সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন আমাদের সামনে আজকের এই পবিত্র জুমাবার মহররমের ১০ তারিখ তথা পবিত্র আশুরার দিন। হিজরত ও আশুরা আমাদের কেবল অতীতের ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না, বরং তা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এক গভীর নৈতিক শিক্ষা দেয়। হিজরতের ত্যাগ আমাদের শেখায় দ্বীন ও সত্যের স্বার্থে পার্থিব সবকিছু বিসর্জন দিতে। আর আশুরা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জুলুম ও অন্যায়ের শক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, চূড়ান্ত বিজয়ী হয় সত্য ও ন্যায়।

 

হিজরত যেমন আমাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রেরণা দেয়, তেমনি আশুরার রোজা ও ইবাদত আমাদের মনে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে। তাই আশুরার এইদিনে আমরা যদি আশুরার শিক্ষাকে পুঁজি করে অন্যায় ও জুলুমের পথ ত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শপথ গ্রহণ করি, তবেই সার্থক হবে আমাদের এই নতুন বছর। আল্লাহ তাআলা আমাদের আশুরার পবিত্রতা রক্ষা করার এবং হিজরতের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দ্বীনের পথে অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

আলী ওসমান শেফায়েত

লেখক ও কলামিস্ট