কক্সবাজার ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: ডাকাতকে ঝাপটে ধরায় হাফেজ দিদারকে কুপিয়ে জখম, চমেক-এ রেফার

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৩:২২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ২২৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের রামপুর কাজলী বাপের চরে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রাতে স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর বাড়িতে একদল সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত এই তাণ্ডব চালায়।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সঙ্ঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর বসতবাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর তারা ঘরের ভেতরের মূল্যবান স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং একাধিক অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুটপাট করে।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল যখন পালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সাহসিকতার পরিচয় দেন মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর দ্বিতীয় সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ দিদার। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেছন থেকে এক ডাকাতকে শক্ত করে ঝাপটে ধরেন। এ সময় নিজেকে মুক্ত করতে ওই ডাকাত এবং তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি ধারালো দা দিয়ে হাফেজ দিদারের মাথায় উপর্যুপরি গুরুতর আঘাত করে। এতে দিদার রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ডাকাত দল লুটের মালামাল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে দিদারের চিৎকার ও শোরগোল শুনে আশেপাশের এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হাফেজ দিদারকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানা গেছে।

এই বর্বরোচিত ও নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় পুরো সাহারবিল ইউনিয়ন ও আশেপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চকরিয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি: ডাকাতকে ঝাপটে ধরায় হাফেজ দিদারকে কুপিয়ে জখম, চমেক-এ রেফার

আপডেট সময় ০৩:২২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের রামপুর কাজলী বাপের চরে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রাতে স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর বাড়িতে একদল সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত এই তাণ্ডব চালায়।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সঙ্ঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর বসতবাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর তারা ঘরের ভেতরের মূল্যবান স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং একাধিক অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুটপাট করে।

লুটপাট শেষে ডাকাত দল যখন পালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সাহসিকতার পরিচয় দেন মাওলানা আব্দুল মোমেন হেলালীর দ্বিতীয় সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ দিদার। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেছন থেকে এক ডাকাতকে শক্ত করে ঝাপটে ধরেন। এ সময় নিজেকে মুক্ত করতে ওই ডাকাত এবং তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি ধারালো দা দিয়ে হাফেজ দিদারের মাথায় উপর্যুপরি গুরুতর আঘাত করে। এতে দিদার রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ডাকাত দল লুটের মালামাল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে দিদারের চিৎকার ও শোরগোল শুনে আশেপাশের এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় হাফেজ দিদারকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে জানা গেছে।

এই বর্বরোচিত ও নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় পুরো সাহারবিল ইউনিয়ন ও আশেপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।