কক্সবাজার ১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থান: পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের সেই সাহসী কণ্ঠ, নারী বিপ্লবীদের স্যালুট: আনিকা নওরিন শিফা

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে যখন স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পুরো বাংলাদেশ রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন এক নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন এ দেশের অকুতোভয় নারীরা।

 

পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে স্লোগান দেওয়া সেই সাহসী নারীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের তামান্না এখন সাহসের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

 

সেদিন পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের দোসরদের কঠোর সমালোচনা করে তার দেওয়া স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিও দেখে ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য প্রান্তের আন্দোলনকারীরা নতুন করে অনুপ্রেরণা ও শক্তি পেয়েছিলেন। এখনো অনেকের কানেই বাজে সেই সাহসী কণ্ঠের হুঙ্কার।

 

“নারীর সাহসে ভর করে এগিয়েছে জুলাই বিপ্লব”

 

জুলাইয়ের দিনগুলোতে শুধু তামান্নাই নন, সারাদেশে অসংখ্য মা-বোনরা স্বৈরাচারের দমন-পীড়নের তোয়াক্কা না করে রাজপথে ছিলেন। কখনো তারা আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছেন, কখনো আহতদের আশ্রয় দিয়ে সেবা করেছেন, আবার কখনো সরাসরি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেছেন।

 

নজরুল যে বলেছিলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”—জুলাইয়ের মাঠে তা যেন পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

 

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন বাঙালি:

ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি বীরের জাতি। অন্যায়কে মেনে না নেওয়া এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মজ্জাগত স্বভাব আমাদের বহুদিনের। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে নারীদের এমন সাহসী অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, এ জাতি কখনো দমে থাকার নয়। তামান্নার মতো সাহসী মুখগুলোই মূলত হয়ে উঠেছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

 

উত্তরাধিকারীদের মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি:

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আন্দোলনের সেই সামনের সারির সাহসী নারীরা কেমন আছেন? তাদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপ্লব সফল হলেও যারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে তাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া নতুন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

 

যেখানেই থাকুন, তামান্নার মতো হাজারো সাহসী নারীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাদের সাহসিকতা যেন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে টিকে থাকে।

 

 

আনিকা নওরিন শিফা

লেখক ও কলামিস্ট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই অভ্যুত্থান: পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের সেই সাহসী কণ্ঠ, নারী বিপ্লবীদের স্যালুট: আনিকা নওরিন শিফা

আপডেট সময় ১২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই মাসের উত্তাল দিনগুলোতে যখন স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পুরো বাংলাদেশ রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন এক নতুন ইতিহাস লিখেছিলেন এ দেশের অকুতোভয় নারীরা।

 

পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে স্লোগান দেওয়া সেই সাহসী নারীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের তামান্না এখন সাহসের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

 

সেদিন পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের দোসরদের কঠোর সমালোচনা করে তার দেওয়া স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিও দেখে ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য প্রান্তের আন্দোলনকারীরা নতুন করে অনুপ্রেরণা ও শক্তি পেয়েছিলেন। এখনো অনেকের কানেই বাজে সেই সাহসী কণ্ঠের হুঙ্কার।

 

“নারীর সাহসে ভর করে এগিয়েছে জুলাই বিপ্লব”

 

জুলাইয়ের দিনগুলোতে শুধু তামান্নাই নন, সারাদেশে অসংখ্য মা-বোনরা স্বৈরাচারের দমন-পীড়নের তোয়াক্কা না করে রাজপথে ছিলেন। কখনো তারা আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছেন, কখনো আহতদের আশ্রয় দিয়ে সেবা করেছেন, আবার কখনো সরাসরি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেছেন।

 

নজরুল যে বলেছিলেন, “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”—জুলাইয়ের মাঠে তা যেন পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

 

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন বাঙালি:

ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি বীরের জাতি। অন্যায়কে মেনে না নেওয়া এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মজ্জাগত স্বভাব আমাদের বহুদিনের। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে নারীদের এমন সাহসী অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, এ জাতি কখনো দমে থাকার নয়। তামান্নার মতো সাহসী মুখগুলোই মূলত হয়ে উঠেছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

 

উত্তরাধিকারীদের মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি:

বর্তমানে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আন্দোলনের সেই সামনের সারির সাহসী নারীরা কেমন আছেন? তাদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপ্লব সফল হলেও যারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে তাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়া নতুন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

 

যেখানেই থাকুন, তামান্নার মতো হাজারো সাহসী নারীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাদের সাহসিকতা যেন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে টিকে থাকে।

 

 

আনিকা নওরিন শিফা

লেখক ও কলামিস্ট