রামুর মনিরঝিলে এখন ৪ বিসিএস ক্যাডার

- আপডেট সময় ১২:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
রামুর মানচিত্রে ছোট্ট একটি গ্রাম, নাম মনিরঝিল। রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের এই গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে খরস্রোতা বাকখালী নদী। বর্ষায় নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে, শুকনো মৌসুমে থাকে স্রোতের টান। সেই নদীই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাধা।
এখানে কোনো হাইস্কুলের ঘণ্টা বাজে না,অন্য গ্রামের মতো এখানে নেই কোন গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা। প্রতিদিন ভোরে বই-খাতা বুকে জড়িয়ে নৌকায় বা হাঁটুপানিতে নদী পেরিয়ে পাশের গ্রামের স্কুলে ছুটতে হয় শিক্ষার্থীদের। যে যাত্রা শুধু কাদা-পানির নয়, জীবনের ঝুঁকিরও।
কিন্তু সেই ঝুঁকি আর বঞ্চনাই যেন তাদের জেদ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে এই অজপাড়াগাঁ থেকেই দেশের সর্বোচ্চ মেধার পরীক্ষায়( বিসিএস) উত্তীর্ণ হয়েছেন চারজন।
তারা হলেন ১ নং ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র মোহাম্মদ কাসেম (২৮তম বিসিএস-শিক্ষা, মেধাক্রম :২, চট্টগ্রাম কলেজ), একই ওয়ার্ডের মনির আহমদের কন্যা তাসলিমুন নেছা (৩৪তম বিসিএস-প্রশাসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ৩ নং ওয়ার্ডের সুলতান আহমদের পুত্র জসিম উদ্দিন (৩৩তম বিসিএস-খাদ্য, বুয়েট) এবং ২ নং ওয়ার্ডের তৈয়ব উদ্দীন সিরাজের পুত্র মিজানুর রহমান (৩৮তম বিসিএস-শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)।
নদী তাদের আটকে রাখতে পারেনি, বরং স্বপ্নকে করেছে আরও দৃঢ়। মনিরঝিলের এই চার কৃতি সন্তানের গল্প এখন শুধু একটি গ্রামের নয়, পুরো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁকখালী নদী পার হতে হয়। নিজ চেষ্টা ও পরিবারের সমর্থনে পড়ালেখা করতে হয়।
চার ক্যাডারের এমন সাফল্যে তারা গর্বিত। তবে তারা মনে করেন, এই মেধাবীদের ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে মনিরঝিলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও বাঁকখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর এ দাবীর সাথে চার বিসিএস ক্যাডারাও একাত্মতা পোষণ করেন । তাদেরও স্বপ্ন নদীতে একটি সেতু হবে। নতুন প্রজন্ম বড় হবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে।



















