কক্সবাজার ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চান প্রায় ২০ লাখ মানুষ

এম এ সবুজ
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের রেলযাত্রা সহজ করতে কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার “চকরিয়া রেলস্টেশনে” আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার সচেতন জনসাধারণ।

 

চকরিয়া রেলস্টেশনটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। স্টেশনটিতে মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং লামা-আলীকদম এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ স্টেশন হয়ে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসে, কক্সবাজার-চট্টগ্রামে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ জরুরি কাজে যাতায়াত করছে। তবে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকৃত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এ যাত্রাবিরতি না থাকায় ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কক্সবাজার রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী মোঃ সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, জনস্বার্থে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবরে আবেদন করি। এর কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য রেলপথ অধিদপ্তর একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় রেলপথ মন্ত্রী বরাবরে আবেদন করি। রেলপথ নিরাপদ হওয়ায় মানুষ রেলকে বেঁচে নেয়। সম্প্রতি রেলওয়ে ঘোষণা দিয়েছেন- মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম -কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। এতে চট্টগ্রাম দক্ষিণের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো জানান, চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা বাড়বে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এমনটি প্রত্যাশা।

 

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন- রেলপথে কেউ চকরিয়া থেকে ঢাকা যেতে চাইলে তাঁকে আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। “যে ট্রেন আমাদের স্টেশনের ওপর দিয়েই যায়, তাতে উঠতে আমাদের আগে অন্য শহরে যেতে হয়। চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতির দাবি জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, “চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, এটা ঠিক। তবে সম্প্রতি চালু করা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চান প্রায় ২০ লাখ মানুষ

আপডেট সময় ১১:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের রেলযাত্রা সহজ করতে কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার “চকরিয়া রেলস্টেশনে” আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার সচেতন জনসাধারণ।

 

চকরিয়া রেলস্টেশনটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। স্টেশনটিতে মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং লামা-আলীকদম এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ স্টেশন হয়ে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসে, কক্সবাজার-চট্টগ্রামে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ জরুরি কাজে যাতায়াত করছে। তবে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকৃত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এ যাত্রাবিরতি না থাকায় ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কক্সবাজার রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

চকরিয়ার গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী মোঃ সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, জনস্বার্থে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো রেলপথ উপদেষ্টা বরাবরে আবেদন করি। এর কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে মতামত যাচাইয়ের জন্য রেলপথ অধিদপ্তর একটি পরিপত্র প্রকাশ করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় রেলপথ মন্ত্রী বরাবরে আবেদন করি। রেলপথ নিরাপদ হওয়ায় মানুষ রেলকে বেঁচে নেয়। সম্প্রতি রেলওয়ে ঘোষণা দিয়েছেন- মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম -কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। এতে চট্টগ্রাম দক্ষিণের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো জানান, চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বৃহত্তর এলাকার যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা বাড়বে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এমনটি প্রত্যাশা।

 

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন- রেলপথে কেউ চকরিয়া থেকে ঢাকা যেতে চাইলে তাঁকে আগে উল্টো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। “যে ট্রেন আমাদের স্টেশনের ওপর দিয়েই যায়, তাতে উঠতে আমাদের আগে অন্য শহরে যেতে হয়। চকরিয়া স্টেশনে পর্যটক ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতির দাবি জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, “চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই, এটা ঠিক। তবে সম্প্রতি চালু করা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়ে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনের গুরুত্ব ও পরিচালনাগত বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”