রাখাইনে আরাকান আর্মির অগ্রযাত্রা, সিতওয়ে ও কিয়াউকফিউ ঘিরে চূড়ান্ত লড়াই

- আপডেট সময় ০৪:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ২৬৪ বার পড়া হয়েছে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি (এএ)-র অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজ্যের অবশিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টাউনশিপের মধ্যে রাজধানী সিতওয়ে ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিয়াউকফিউকে কেন্দ্র করে তীব্র যুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মি দাবি করছে, পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে তারা পৌঁছে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সিতওয়ের আশপাশে স্থল, নৌ ও আকাশপথে ব্যাপক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও কালাদান নদীতে অবস্থান নেওয়া জান্তা বাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোর সঙ্গে আরাকান আর্মির গোলন্দাজ লড়াই চলছে। একইসঙ্গে সিতওয়ের নিকটবর্তী একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহী বাহিনী।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘর্ষে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতভর গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা এবং যুদ্ধের শব্দে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আরাকান আর্মির হামলায় জান্তা বাহিনীর অন্তত একটি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে নৌবাহিনীর কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে চীনের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্পসমৃদ্ধ কিয়াউকফিউ টাউনশিপেও সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাউং মাও উ নৌঘাঁটি থেকে অগ্রসর হওয়া জান্তা সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি। বিদ্রোহী বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, কয়েক দিনের সংঘর্ষে একজন ক্যাপ্টেনসহ ৪০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে।
ক্রমাগত চাপের মুখে জান্তা বাহিনীর সদস্যরা কিছু এলাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন সেনা মোতায়েনের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, কিয়াউকফিউ অঞ্চলে অন্তত আট হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তার সংকট দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে। পাশাপাশি চিন রাজ্যের পালেতোয়া এলাকাও তাদের দখলে। আরাকান আর্মির প্রধান তুন মিয়াত নাইং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সিতওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং—এই তিনটি অবশিষ্ট টাউনশিপও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাখাইনে চলমান এই সংঘাত মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সিতওয়ে ও কিয়াউকফিউয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে লড়াই চলছে, তা দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।



















